উদ্ভিদে উপস্থিত কিছু রাসায়নিক উপাদান 

আমরা জানি সকল উদ্ভিদ বিষাক্ত নয় আবার সকল উদ্ভিদ প্রাণীর জন্য মঙ্গলজনক নয়।কিছু কিছু উদ্ভিদ বিষাক্ত। সেই উদ্ভিদগুলো মানুষ বা অন্য প্রাণীদের  মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যেমন ধুতরা আমরা জানি ধুতরা একটি বিষাক্ত গাছ গাছ। তো আমরা আজ জানবো উদ্ভিদে প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকারক যে সকল রাসায়নিক উপাদান থাকে সেগুলো কী কী ও তার বর্ণনা। 

বিষাক্ত  উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত ও মরণঘাতী উদ্ভিদ হলো তামাক। প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন লোক তামাক পাতার কারণে মারা যায়।তামাক পাতায় থাকে Alkaloids nicotine এবং anabasine যা শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে। পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিষাক্ত গাছ হলো অলিয়েন্ডার (oliender) যাতে লেথাল কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড থাকে যা oleandrin ও neriin বলা হয়।এ গাছ খেলে বমি হতে পারে, অজ্ঞান হতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 

উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত কিছু রাসায়নিক যৌগ
oliender



জৈব অ্যাসিড

উদ্ভিদের বিষাক্ত জৈব অ্যাসিডের মধ্যে সর্বাধিক অক্সালেট রূপে থাকে। এছাড়া ফর্মিক অ্যাসিড কিছু কিছু উদ্ভিদে পাওয়া যায় । এগুলো  মানুষের খাদ্যনালীতে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে ।এছাড়া উদ্ভিদে আরো অনেক ধরনের  বিষাক্ত যৌগ রয়েছে যারা পরিবেশ, পারিপার্শিক অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল বলে এদের ক্রিয়া-কর্ম ভিন্ন প্রকৃতির । কোন প্রাণী ঐসকল উদ্ভিদ  খাওয়ার পর রোদে গেলে আক্রান্ত হয় । অ্যান্ড্রোমিডোটক্সিন, ক্লাম্বাজীন, উইনেন্‌থোটসিন ইত্যাদি ছাড়াও আরো বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগ উদ্ভিদে পাওয়া যায়।


এলকালয়েড

এলকালয়েড সাধারণত যৌগিক বাহুরচক্রিক নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগ। এলকালয়েড ক্ষারীয় এবং প্রান্তীয় অ্যামিন যুক্ত। ক্ষারগুলো জৈব এসিড যুক্ত এবং সাধারণত পানিতে দ্রবীভূত। বেশিরভাগ  এলকালয়েড খুবই বিষাক্ত এবং স্বাদে তেতো হয়। এলকালয়েড উদ্ভিদের আত্মরক্ষাকারী বৈশিষ্ট্য হিসেবে কাজ করে এবং নিম্ন স্তরের উদ্ভিদের মধ্যে এলকালয়েড পাওয়া যায় না। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে এলকালয়োড পাওয়া যায় দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে। যেমন কোনাইন পাওয়া যায় হ্যামলগ গাছ থেকে।কথিত আছে দার্শনিক সক্রেটিসকে একগ্লাস হ্যামলগ খাওয়ানো হয় তাতে তার মৃত্যু হয়। নিকোটিন তামাক গাছ থেকে। কোররিন পাওয়া যায় কোরারি গাছ থেকে। স্ট্রিকনিন পাওয়া যায় কুচিলা বীজ থেকে। এমিটিন সাইক্রোট্রিয়া গাছ থেকে। 


পিউরিন বা মিথাইল জেন্থিন 

পিউরিন এক প্রকার নাইট্রোজেন গঠিত যৌগ চা কফিতে এগুলো পাওয়া যায়। পিউরিন এর রাসায়নিক পদার্থগুলো হলো কেফেইন, পাইলিন,থিওব্রোমাইন


 অ্যামিন

এরা অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে উৎপন্ন । এদের মধ্যে কয়েকটি বিষাক্ত ও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী এবং ছত্রাকে আইসো অ্যামাইলামিন রূপে পাওয়া যায় । উচ্চতর উদ্ভিদে অ্যামিনের পরিমান অত্যন্ত কম ।


 গ্লুকোসাইড

এরা একগুচ্ছ জৈব যৌগ এবং বিভিন্ন উদ্ভিদে বিস্তৃত । চিনি অথবা এর নিকটবর্তী  যৌগ অথবা ফিনাইল, অ্যালডিহাইড, অ্যালকোহল ইত্যাদি গ্লুকোসাইডের মিশ্রনে তৈরী হয় । গ্লুকোসাইডের মধ্যে সবগুলিই বিষাক্ত নয় । উল্লেখযোগ্য বিষাক্ত গ্লুকোসাইড গুলি হলো, হাইড্রোসায়ানিক অ্যাসিড, অ্যামিকডেলিন, ফেজিওলোনেটিন যা সিম গাছে পাওয়া যায়, গাইনোকার্ডিন, চালমুগ্রা বীজে বিস্তৃত । এছাড়া এর চেয়েও বেশি বিষাক্ত গ্লুকোসাইড হলো সিনিগ্রিন, সিনালবীন যারা সাদা ও কালো সরিষায় বিদ্যমান । জীবন সংশয়কারী গ্লুকোসাইডের মধ্যে ডিজিকসিন ডিজিবৌলিন, থিবেটিন, স্ট্রোফানটিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।


 সেপোনিন 


প্রায় এক হাজার প্রজাতির উদ্ভিদে সেপোনিন পাওয়া যায় । সেপোনিন পানির সাথে ভালভাবে মেশালে ফেনা উঠতে থাকে । সেপোনিন অত্যন্ত তেঁতো এবং এদের শুষ্ক পাউডার চামড়ার সংস্পর্শে এলে ত্বক অত্যন্ত জ্বালা সৃষ্টি  করে । ঠান্ডা রক্তের প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেপোনিন অত্যন্ত ক্রিয়াশীল এবং ক্ষতিকারক বলে জলের সাথে সেপোনিন ১ : ২০০০০০ অনুপাতে মিশালেও এরা মাছের মৃত্যু ঘটায় । নদী নালায় সেপোনিন যুক্ত গাছ কেটে থেঁতো করে জলে মিশিয়ে মৎস শিকার করা হতো।উষ্ণশোনীত প্রাণ৷ অর্থাৎ গৃহপালিত পশু ও মানুষের ক্ষেত্রে সেপোনিন পাকস্থলী ও খাদ্যনালীর অভ্যন্তরে অত্যন্ত অস্থিরতা উৎপন্ন করে যার ফলে বমি এবং পরবর্তী সময়ে পাতলা পায়খানা, শরীরে খিচুনি ইত্যাদি হতে পারে  । রক্তের সংস্পর্শে এলে সেপোটসিন মানুষের রক্তের কোষগুলিকে ভেঙ্গে দেয় এবং মৃত্যু ঘটায় । 


বিষাক্ত প্রোটিন

উদ্ভিদের বিষাক্ত প্রোটিন গুলিকে টক্‌সঅ্যালবুমিন বলে । এবা ক্যাসিয়া, ক্রোটন, কেষ্টর ইত্যাদি ইউফরবিয়েসী গোত্রের উদ্ভিদে বিশেষভাবে বিদ্যমান । উল্লেখযোগ্য বিষাক্ত প্রোটিন হলো একসিন, ক্রোটিন, কস্টিন, বিসিন । এরা বাস্তবে রক্তের সাথে বিক্রিয়া করে মানুষেমানুষের মৃত্যু ঘটায়।




Previous Post Next Post