ইসলামি জিহাদ নিয়ে সমালোচনা ও উত্তর 

আপনারা যারা ইসলাম বিদ্বেষী তারা কি কখনো সত্য ইতিহাসটা পড়ে দেখেন? কিভাবে মোহাম্মদ সা এর উত্থান হয়েছিল? তিনি কি ধর্মব্যবসায়ী ছিলেন?   আপনি কি জানেন মোহাম্মদ সা: মৃত্যুর পূর্বে মাত্র ৭ দেরহামের মত সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন।চাইলে তিনি খাদিজা রা: থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ  করে ধনী হতে পারতেন।তার অট্টালিকা কোথায়? অর্ধপৃথিবীর শাসক ওমরের অট্টালিকা কোথায়? চার খলিফার সম্পদ কোথায়? নেই। কারন তারা ধর্মব্যবসায়ী ছিলেন না।  মোহাম্মদ নাকি অমুসলিমদের তাড়িয়ে দিয়েছে। তাহলে মোহাম্মদকে কেন দেশ ছাড়তে হলো? কেন কোরাইশরা তাকে এলাকা ছাড়া করলো? কুরাইশরা যদি এতো বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তবে কেন হযরত বেলাল রা: কে উত্তপ্ত বালিতে ফেলে অত্যাচার করেছিল। ইসলাম গ্রহণের কারণে আবু জেহেল  ইসলামের প্রথম শহীদ  সুমাইয়া রাঃ ও তার স্বামীকে হত্যা করে।ইসলাম গ্রহন কি অপরাধ?  তবে কেন তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলো?

হযরত মোহাম্মদ সা: এর দুই কন্যা রুকাইয়া ও কুলসুমের সাথে আবু জেহেলের দুই ছেলে উৎবা ও উতাইবার বিয়ে হয়।ইসলাম প্রচারের কারণে দুই কন্যাকে তালাক দেয়।

হযরত ওমর রা: কে একজন অমুসলিম দাস নামাজরত অবস্থায় ছুরিকাঘাত করে।অসুস্থ অবস্থায় তিনি মারা যান। 

হযরত আয়েশার নামে কুৎসা রটনা করে। পরে এর সমাধান হয়।

সেই বসনিয়া থেকে শুরু করে বর্তমান প্যালেস্টাইন পর্যন্ত গত ১০০ বছরে সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে কত লক্ষ মুসলিম নিহত হয়েছে তার হিসাব আছে আপনার কাছে? এসকল হত্যার স্বীকার বেশিরভাগ বেসামরিক মানুষ। 

পিউ এর একটি জরিপে দেখা গেছে বিশ্বের অনেক দেশে শুধু বোরকা পরার কারণে বৈষম্য ও বর্ণবাদের স্বীকার হতে হয়।এর জবাব কী?


চেঙ্গিস খাঁ, আলেকজান্ডার, হিটলার এরা কি মুসলিম ছিল? কত লক্ষ মানুষকে এর মেরেছে তার হিসাব আছে? প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ কি? সাম্রাজ্যবাদী,  লুটেরা ও ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক নেতার  হাতে যত মানুষ মরেছে ততো মানুষ কি ধর্মীয় কারণে মরেছে? আচ্ছা আর্যরা যখন পারস্য থেকে ভারত উপমহাদেশে আসলেন তখন উপজাতিদের সাথে তারা কিরুপ আচরণ করেছিল জানেন? আর্যদের ভয়ে তারা পাহাড়ে পালিয়েছিল। হাজার বছর ধরে তারা সমতলে আসে নি।


চলুন দেখি রাসূলের জীবদ্দশায় কতটি যুদ্ধ হয়েছিল ও মুসলমানদের হাতে কতজন মারা গিয়েছিল? আর অমুসলিমদের হাতে কতজন মুসলিম মারা গেছে। 

আরবের প্রভাবশালী গোত্রগুলোর সাথে হযরত ইব্রাহিম আ: এর বংশের সংযোগ রয়েছে। হযরত মোহাম্মদ সা: এর পূর্বপুরুষরা হজরত ইব্রাহিম এর পুত্র হজরত ইসমাইল রা এর বংশধর।  ধীরে ধীরে তারা ইব্রাহীম প্রচারিত ইসলাম থেকে দূরে সরে যায়। আরবের কুরাইশগন বিশ্বাস করতো যে আল্লাহ নামে কেউ আছেন। কাবায় যে মূর্তিগুলো ছিল তারা কেউ সৃষ্টিকর্তা নয় তবে আল্লাহ তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন।তারা রক্ষা করেন।তবে আল্লাহ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।  এমনটা বিশ্বাস ছিল আরবদের।হযরত মোহাম্মদ সা এর পিতার নাম ছিল  আব্দুল্লাহ্। এর থেকে বোঝায় যায় আল্লাহ শব্দের প্রচলন ছিল।যাইহোক হযরত মোহাম্মদ শিশু বয়স থেকে দেখছেন পবিত্র কাবা নিয়ে ব্যবসা চলছে।কাবার দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা অন্যদের থেকে আয়েশি জীবন-যাপন করেন। দূর দূরান্ত থেকে লোক এসে কাবা কেন্দ্রিক বানিজ্য করতো।( নবী মোহাম্মদ এর ২৩ বছর বইটি পড়ুন)  যেহেতু অতীতকাল থেকে কাবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই অনেকে হিংসা করতো। অনেকে কাবা দখল করার পরিকল্পনা করেছে। যেমন ইয়েমেনের শাসক আবরাহা কাবা ঘর আক্রমণ করে।তখন কাবা ঘরের দায়িত্বে ছিল আব্দুল মুত্তালিব। আবরাহা ইয়েমেনের সানা শহরে একটি উপসনালয় তৈরি করেন বানিজ্যের উদ্দেশ্যে।কাবার জন্য সেটি জনপ্রিয়তা পায় নি।ফলে কাবা ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন। বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে আসে আবরাহা।অবশেষে ব্যর্থ হয়।আবরাহা নিজেই ধ্বংস হয়


মক্কা থেকে মুসলিমদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার পূর্বে  মুসলিমরা কখনো অস্ত্র ধারণ করেনি। বিবাদ এবং সংঘর্ষে ও জড়ায়নি। বরং মুসলিমরা মক্কা থেকে মদিনায় এসে বসবাস শুরু করে। তবুও অমুসলিমরা নানা ভাবে মুসলিমদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এভাবে চলতে থাকলে মুসলিমরাও কিছু অভিযান শুরু করে। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এবং নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্যই মূলত এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছিল 


১. হমজা অভিজান

মুসলিম :৩০-৪০ জন

কুরাইশ : ৩০০ জন

ফলাপল: কোনোপক্ষে হতাহত হয় নি


২. উবায়েদ অভিযান

মুসলিম: ৬০ জন

কুরাইশ  : ২০০ জন

ফলাফল: কোনোপক্ষের ক্ষতি হয় নি।

৩. আবওয়া অভিযান

৪. বুওয়াত অভিযান

৫ উশাইরা অভিযান 

৬. আল খাররার অভিযান

উপরোক্ত ৪ টি অভিযানে কারর কোন ক্ষতি হয়।

৭. সাফওয়ান অভিযান

অমুসলিমরা মুসলমানদের গবাদিপশু লুট করে মক্কায় নিয়ে যায়। 

৮. নাখলা অভিান

মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার বেড়ে যায় ফলে এই প্রথম সরাসরি আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

ফলাফল : 

মুসলিম নিহত = ০

কুরাইশ নিহত = ১


১০. বদর যুদ্ধ 

মুসলিমদেরকে মক্কা থেকে মদিনায় দাঁড়িয়ে দেয়ার ফলে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় । 

মুসলিম সৈন্য : ৩১৩ জন, ২ টি ঘোড়া, ৭০ টি উট

মুসলিম নিহত: ১৪  জন

কুরাইশ সৈন্য: ১০০০ জন, ১০০ টি ঘোড়া, ৭০০ উট

কুরাইশ  নিহত : ৭০ জন, বন্দী ৭০ জন।

১১.  বনু কায়নাকা

বনু কায়নাকা ছিল আরবের একটি ইহুদী গোত্র। এক মুসলিম নারী  ওই গোত্রেরই একটি দোকানে যায়।সম্ভবত স্বর্ণের দোকানে । এক ইহুদি ব্যক্তি ওই নারীর মুখ খুলতে বলেন। মুসলিম নারী বোরকা খুলতে রাজি হয়নি। তাই ওই ইহুদী ব্যক্তি লোক চক্ষুর আড়ালে  চেয়ার ও বোরকার সাথে পেরেক ঢুকিয়ে দেন। মুসলিম নারীটি চেয়ার থেকে উঠে চলে যেতে গেলে  কাপড় খুলে যায় এবং মেয়েটি আর্তনাদ করতে থাকে। এই ঘটনাটি একটি মুসলিম ছেলে দেখে ফেলে এবং ওই লোকটিকে হত্যা করে। বনু কাইনাকা গোত্রের লোকেরাও ওই মুসলিম ছেলেটিকে হত্যা করে। এরপরে মুসলিমরা বনু কায়নাকা আক্রমণ করে এবং তারা সবাই আত্মসমর্পণ করে। বনু কায়নাকা গোত্রের লোকেরা মদিনা শান্তি চূক্তি  ভঙ্গ করেছিল।


১২. ছাতুর যুদ্ধ 

বদরের যুদ্ধের ফলাফলের জেরে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ছাতুর নামক স্থানে । ২০০ জন কুরাইশ মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে। এতে দুজন মুসলিম মারা যায়। অমুসলিমদের কোন ক্ষতি হয়নি 


১৩. আল কুদুর যুদ্ধ

বনু সুলাইম গোত্রের লোকেরা মদিনার মুসলিমদের ওপর আক্রমণে পরিকল্পনা করে এই পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর  মুসলিমরা অভিযান চালায় এতে কোন হতাহত হয় নাই। 

১৪.  বুহরান অভিযান 

১৫.  যু আমর অভিযান

কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।


১৬.  উহুদ যুদ্ধ 

বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের পরাজয়ের ফলাফলে  কুরাইশ গোত্র খুবই ব্যথিত হয় এবং প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে এবং উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয় 

মুসলিম  সৈন্য : ৭০০ জন, ৫০ তীরন্দাজ, ৪ টি ঘোড়া

কুরাইশ : ৩০০০ জন পদাতিক,৩০০ উট ২০০ ঘোড়া

ফলাফল 

মুসলিম নিহত: ৭০ জন

কুরাইশ নিহত: ৩৭ জন


১৭। বনু নাদির গোত্র  অভিযান

বনু নাদির গোত্রের লোকেরা মোহাম্মদ সা: কে হত্যার পরিকল্পনা করে। তথ্যটি ফাঁস হয়ে যায়। মুসলিমরা বনু নাদির  অভিযান চালায় এবং তাদেরকে নির্বাসিত করে  কিন্তু কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। 

১৮. খন্দকের যুদ্ধ 

বনু নাদির বনু কাইনাকা ও কুরাইশদের মধ্যে জোট হয়।তারা  মদিনার মুসলিমদেরকে ২৭ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে। মদিনার অমুসলিমরা মদিনা সনদের শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করে। কুরাইশ জোট প্রায় ১০ হাজার সৈন্য ও ৬০০ ঘোড়া নিয়ে মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে। মুসলিম সৈন্য ছিল  ৩০০০ জন।

ফলাফল 

মুসলিম নিহত: ৭ জন

কুরাইশ জোট নিহত: ১৬ জন

১৯. খায়বার যুদ্ধ 

খয়বারে অবস্থিত ইহুদীরা এবং আরবের গাতাফান  ও আরব বেদুইনদের সাথে নিয়ে আক্রমণ  করার পরিকল্পনা করে এবং মোহাম্মদকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে ইহুদিরা। ফলে যুদ্ধ সংঘটিত হয় 

মুসলিম সৈন্য =১৬০০

ইহুদি সৈন্য = ১০০০০ জন, গাতাফান সৈন্য = ৪০০০ জন।

ফলাফল 

মুসলিম নিহত = ২০ জন

ইহুদি নিহত = ৯৩ জন


২০. মুতার যুদ্ধ 

মোহাম্মদ  তার এক সাহাবীকে বসরার গভর্নরের কাছে একটি চিঠি নিয়ে পাঠান। তখন বসরার গভর্নর ছিল রোমের কায়সারের গভর্নর শুরাহবিল।শাসক ঐ সাহাবীকে হত্যা করে। ঘোড়ার সাথে রক্তমাখা দড়ি বেঁধে আরবে পাঠায়।যুদ্ধের সূত্রপাত এখানেই। 

বাইজেন্টাইনের ১ লক্ষ সৈন্যের সাথে মুসলিমদের ৩০০০ সৈন্য যুদ্ধ করে।

ফলাফল 

মুসলিম নিহত: ১২ জন

বাইজেন্টাইন সৈন্য নিহত: ৩০০০ জন।

২১. হুনাইন যুদ্ধ 

আরবের বেদুইন গোত্র মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে ১২ হাজার মুসলিম ও বিশ হাজার আরব বেদুইন অংশ নেয়।

৭০ জন আরব বেদুইন  নিহত হয়। 


২২. তাবূক যুদ্ধ 

আবু আমের ছিলেন মদিনার একজন আউস নেতা তিনি রোম সম্রাট  হেরক্লিয়াসকে মদিনা আক্রমণের জন্য উৎসাহ দিলেন। এবং তিনি বললেন মুসলিমদের মধ্যে তার কিছু লোক রয়েছে। রোমরা মুসলিমদের  বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে তারা ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি আরো বলেন মক্কা ও মদিনার ইসলাম বিরোধী গোত্রগুলো রোমদের সাথে  যোগ দেবে। এ খবর মুসলিমদের কানে চলে যায়।মুসলিমদের মধ্যে থাকা মুনাফিকরা   রোমদের শক্তি সম্পর্কে গাল গল্প করে মুসলিমদের মধ্যে ভীতি তৈরি করার  চেষ্টা করেছিল। মুসলিমরা তাদের বিশাল বাহিনী নিয়ে রোম সীমান্তে অবস্থান নিলেন। যাতে রোম সৈন্যরা মদিনায় না ঢুকতে পারে। কারণ মুসলিমরা ভেবেছিল মদিনায় রোম সৈন্যরা ঢুকলে হতাহতের সংখ্যা বাড়বে। রোম সম্রাট বিষয়টি বেগতিক দেখে ভয় পেলেন ও আত্মসমর্পণ করলেন। মুসলিমরা বিনা যুদ্ধে জিতে গেলেন। এই বিনা যুদ্ধে জয়ের ফলে  আরবের মুসলিমদের প্রভাব বাড়তে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন রাজ্য থেকে শাসকগণ শান্তি চুক্তি প্রস্তাব   পাঠায় এবং মুসলিমদের সাথে শান্তি চুক্তি করে। 


উপরোক্ত ইতিহাস ভালো করে পাঠ করুন। এখানে মুসলমানদের দোষ কতটুকু? মক্কার কুরাইশরা যদি মুসলমানদের বিতাড়িত না করতো।অত্যাচার না করতো উপরোক্ত যুদ্ধগুলো সংঘটিত হতো না।মদিনার গোত্রগুলো শান্তি চূক্তি ভঙ্গ না করতো তাহলে ঐ যুদ্ধগুলো হতো না। এক ইহুদি নারী মাংশের সাথে বিষ প্রয়োগ করে মুহাম্মদ সা: খাওয়ান। মোহাম্মদ তাকে ক্ষমা করে দেন। ওমরকে যে দাস হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমন করে তার পরিবারের সদস্যদের ওমরের পুত্র হত্যা করলে ওমর তার নিজ সন্তানকে গ্রেফতার করেন।এটাই হলো ইসলাম। যে ইসলাম বলে, যে ব্যক্তি কোনো  নিরীহ মানুষকে হত্যা করলো সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো।মোহাম্মদ সা: বিদায় হজ্বে বলেছেন, পিতার অপরাধে পুত্র শাস্তি পাবে না।অনারবদের উপর আরবদের কর্তৃত্ব থাকবে না।


ইসলামে যুদ্ধ ও সমালোচনাকারীদের অভিযোগ


Previous Post Next Post