দলিল ও নথিপত্রের সাঁটলিপি

বিভিন্ন ধরনের সাঁটলিপি

জমি-জমা দলিল ও পুরোনো নথিপত্র,  দস্তাবেজ এ এলাকা, স্থান, জায়গা, তারিখ নাম পদবী ও চূক্তিপত্রে সংক্ষেপে কিছু শব্দ লেখা হয়। এসকল দালিলিক সংক্ষিপ্ত লিখনকে "সাঁটলিপি" বলে। নিম্নে কিছু সাঁটলিপি দেয়া হলো।

Ar= Arabic, Pers= persian, Sn= Sanskrit বোঝানো হয়েছে। 


 ইং = ইসাদ < Ar ishhad

কীং   কিসমত < Ar. qismat

কি° for কিসমত a village or divifion. কিং for কিসমত village or division.)-এন.বি. হ্যালহেড(G.B, পৃ. ১৯৪)

গুং  গুজরত < Pers. guzarda 

চঃ   চক < Sn. চক্র (প্রশাসনিক বিভাগবিশেষ)

টঃ  টক্কা

টং টঙ্কা < Pers. tank wal

তাং তারিখ < Ar. tarikh

তা   তারিখ the date or day of the month -N.B. Halhed ( G.B, পৃ. ১৯৫)

তাঃ তারিখ < Ar. tarikh তেং তারিখ < Ar. tarikh

তা তারিখ < Ar, tarikh

দং দরুন < Pers daran

নাং নাগাদ < Ar lighayat

নাঃ নাগাদ < Ar, lighayat

পং  পরগণা < Pers. pargana

প°- পরগনে ​​পারগুননেহ বা জমির বড় অংশ। -এন.বি. হ্যালহেড (G.B, পৃ. ১৯৫)

পo পরগনা < Pers. pargana পঃ পরগনা < Pers. pargana

পঃ প্রস্তুতকারক (Prepared by )

বং বকলম < Pers. ba-qalam

বৈং বৈষ্ণব

মোঃ মৌজা < Ar. mawdi

মো-  মোকাম একটি স্থান, যে কোনো স্থানের নামের পূর্ববর্তী। -এন.বি. হ্যালহেড (G.B, পৃ. ১৯৫)

মোং মৌজা < Ar. mawdi',pers পিআর mawzi"

 মং মৌজা < আর. মাওদি',pers পিআর মাওজি

শাং সাকিন < Ar. sakin 

সাং সাকিন < Ar sakin


জমি জমার মাপ  ও চতুর্দিক নির্ণয়ের  ক্ষেত্রে সাঁটলিপি

তদ- উত্তরদিক

 তদু - দক্ষিণাদিক

তপ - পশ্চিমদিগ 

তপু -পূৰ্ব্বদিগ 


পুরোনো দলিলে চূক্তিতে ব্যবহৃত  বিভিন্ন চিহ্ন বা শব্দজ্ঞাপক চিহ্ন

আমরা প্রাচীন বিভিন্ন চিঠি, দলিল ও হিসাবপত্রে ৭,৺  চিহ্ন এবং ং (= ৎ) চিহ্নের একক বা যৌথ ব্যবহার  দেখেছি। এই চিহ্নগুলি সম্পর্কে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির বিভিন্ন  অভিমত পাওয়া যায় ঈশ্বর শব্দের বিকল্পরূপে ৺ চিহ্নের ব্যবহার হতো।যেমন ৺ ফরমান অর্থ হলো ৺ বা ইশ্বর প্রদত্ত ফরমান।

মঙ্গল চিহ্ন (৭)

 ৭ সম্পর্কে মোহাম্মদ আবদুল কাইউম বলেছেন, বাংলা ৭-এর ন্যায় এই চিহ্নটি মধ্যযুগের বাংলা পুঁথিকে মাঙ্গলিক অক্ষররূপে হিন্দু- মুসলিম নির্বিশেষে ব্যবহৃত হতো। এই চিহ্নটি 'আঞ্জি' বা 'আঁজি' নামে পরিচিত।

 ডঃ সুকুমার সেন মনে করেন এই '৭' চিহ্নটি মাঙ্গলিক শঙ্খ চিহ্নের বিবর্তিত রূপ। তাঁর মতে 'আঞ্জী' শব্দটি সম্ভবত সংস্কৃত 'আন্ত্রিক' থেকে এসেছে। 'অঞ্জ' ধাতুর এক মানে হল শুভারম্ভ করা।

 ডঃ মুহম্মদ এনামুল হক ‘আজি' শব্দটি সংস্কৃত আদ্য শব্দ থেকে এসেছে বলে মনে করেন। এই ৭ চিহ্নটি নাম গণেশের আকড়ি।


যেমন, 

৭ শ্রীশ্রী হরি

৭ শ্রীশ্রীরাম ইত্যাদি। 

গণেশের আকড়ি ৭ ও ৺ ছাড়াও কোন কোন শাসনে  ৎ ব্যবহারেরও নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিক পণ্ডিতগণ এইগুলিকে প্রণবের প্রতিরূপ বলে মনে  করেন।( অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ)

বিদ্যাবিনোদের মতে চিহ্নটির নাম আথ্রী। ''ও !!' এই আঞ্জীরই  রূপান্তর।  মহামহোপাধ্যায় রামনাথ বিদ্যারত্ন মহাশয়ের মতে এই সকল চিহ্নের সহিত ষট্ চক্রের সম্পর্ক  রয়েছে। পণ্ডিত প্রবর শ্রীযুক্ত পঞ্চানন তর্করত্ন মহাশয়ের মত  ( ৎ) সর্পাকৃতি কলাকুণ্ডলিনীর মধ্যমা ভাবাপন্না চিত্র প্রতিকৃতি।কারও কারও মতে এগুলল স্বস্তিক চিহ্ন। 

দলিল ও নথিপত্রের সাঁটলিপি



Blogger দ্বারা পরিচালিত.